নারায়ণগঞ্জের ১০০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের (ভিক্টোরিয়া) সাবেক সিনিয়র স্টাফ নার্স মরহুম ফ্রান্সিলিয়া গোমেসের পেনশন, আনুতোষিক ও অন্যান্য অবসরকালীন আর্থিক সুবিধা দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকার অভিযোগ উঠেছে।
নতুন সিভিল সার্জন আসার পর কার্যক্রম কতটুকু অগ্রসর হয়েছে—এ বিষয়ে জানতে চাইলে সিভিল সার্জন ডা. এস. এম. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, "তাদের আবেদনের প্রেক্ষিতে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল। পরবর্তীতে সেই তদন্ত কমিটিকে অমান্য করে মন্ত্রণালয়ের নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের মাধ্যমে পুনঃতদন্তের জন্য তারা আমার কাছে আবারো একটি আবেদন করেন।"
শনিবার (৩রা অক্টোবর, ২০২৬) সকালে সিভিল সার্জন কার্যালয়ে এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন।
সিভিল সার্জন ডাক্তার সাখাওয়াত হোসেন বলেন, "আমি নারায়ণগঞ্জে পদোন্নতি নিয়ে সিভিল সার্জন হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছি। এখানে আসার পর নথিপত্র পর্যালোচনা করার সময় আলোচিত বিষয়টি আমার নজরে আসে। দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই মরহুম ফ্রান্সিলিয়া গোমেসের স্বামী ও সন্তানরা আমার কাছে একটি লিখিত আবেদন নিয়ে আসেন (১৪/০৯/২০২৬)। সেখানে পূর্ববর্তী তদন্তের নিরপেক্ষতা যাচাই, সংশ্লিষ্ট নথিপত্র পুনঃপর্যালোচনা এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের ভূমিকা তদন্তের অনুরোধ জানানো হয়।"
তিনি আরও বলেন, "সেই আবেদনের প্রেক্ষিতে বিষয়টি সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে সুরাহার লক্ষ্যে নারায়ণগঞ্জ জেলা থেকে অভিজ্ঞ চিকিৎসকদের সমন্বয়ে তাৎক্ষণিকভাবে পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে দিই (১৫/০৯/২০২৬)। তদন্ত চলাকালে তদন্ত কমিটির পক্ষ থেকে প্রয়াত নার্সের স্বামী ও সন্তানকে হাজির হওয়ার জন্য একটি চিঠি দেওয়া হয়। দু'জন প্রতিনিধি পাঠিয়ে সরাসরি তাঁদের বাড়িতে সেই চিঠি পৌঁছানো হয়। কিন্তু চিঠিপত্র পাওয়ার পর সৌরভ দেউড়ী তদন্ত কমিটির প্রতিনিধিদের সাফ জানিয়ে দেন যে তাঁরা তদন্তে হাজির হবেন না।"
সিভিল সার্জন যুক্ত করেন, "এরপর গত ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে ৫ পৃষ্ঠার একটি আবেদন আমার দপ্তরে পাঠানো হয়। এতে প্রয়াত নার্সিং সুপারভাইজার ফ্রান্সিলিয়া গোমেসের চাকরি, জাতীয় বেতন স্কেল ২০১৫ অনুযায়ী প্রাপ্যতা, পি.আর.এল, অবসর, পেনশন ও আনুতোষিক সংক্রান্ত বিষয়ে পূর্ববর্তী কার্যক্রমের গাফিলতি এবং দাপ্তরিক কর্মকর্তাদের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়। একইসঙ্গে স্থানীয় দপ্তরের মাধ্যমে তদন্ত পরিচালনার বিপক্ষে আপত্তি জানিয়ে নিয়োগকারী বা নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে নিরপেক্ষ ও পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানানো হয়।"
উদ্বেগ প্রকাশ করে সিভিল সার্জন প্রশ্ন তোলেন, "তদন্ত চলাকালে আপনাদের ডাকা হলো কিন্তু আপনারা আসলেন না; বরং তদন্ত কমিটির বিরুদ্ধে আবার আবেদন পাঠালেন! তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই বা ফল পাওয়ার আগেই আপনারা কীভাবে বুঝলেন যে এই তদন্ত নিরপেক্ষ হবে না?"
তিনি বলেন, "কমিটি আপনাদের বক্তব্য শোনার জন্য ডাকলো, অথচ আপনারা তা অমান্য করলেন। আপনাদের কোনো বক্তব্য থাকলে সরাসরি কমিটিকে জানাতে পারতেন। আমি তো তদন্ত কমিটির কোনো সদস্য নই, তাহলে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের নামে আমার কাছে কেন পুনরায় আবেদন করা হলো? তা সত্ত্বেও তদন্ত কার্যক্রম চলছে। তদন্ত প্রতিবেদন জমা হলে সম্পূর্ণ রিপোর্ট আমরা মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়ে দেব। মন্ত্রণালয়ই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।"
তদন্ত কমিটির নিরপেক্ষতা বিষয়ে সিভিলসার্জন ডা. সাখাওয়াত বলেন, "তদন্তের স্বচ্ছতার স্বার্থে আমি নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন স্থান থেকে অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের এনেছি। আগের তদন্ত কমিটির কাউকেই বর্তমান কমিটিতে রাখা হয়নি; সবাই নতুন ও অভিজ্ঞ। আমার প্রশ্ন হলো—আপনারাই তদন্ত চাইলেন, তদন্ত কমিটি গঠন করা হলো, অথচ তদন্ত শেষ না হতেই রেজাল্ট পাওয়ার আগেই কীভাবে তাঁদের প্রতি অনাস্থা জানালেন, তা আমার বোধগম্য নয়। তা সত্ত্বেও আমরা চাই এই সমস্যার দ্রুত সমাধান হোক।"
মন্তব্য করুন