নারায়ণগঞ্জের আদালত স্থানান্তর নিয়ে বিভিন্ন মাধ্যমে চলমান আলোচনা ও গুঞ্জনে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এইচ এম আনোয়ার প্রধান। তিনি বলেছেন, আইনজীবীদের বিরুদ্ধে সরকার কোনো হঠকারী সিদ্ধান্ত নেবে না বলে তাদের দৃঢ় বিশ্বাস রয়েছে।
সোমবার (২৪ আগস্ট) দুপুর আড়াইটায় নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতি ভবনের তৃতীয় তলায় আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
আনোয়ার প্রধান বলেন, নারায়ণগঞ্জের ম্যাজিস্ট্রেসি ও জজশিপের কিছু আদালত ও মামলা অন্যত্র স্থানান্তরের বিষয়ে বিভিন্ন মাধ্যমে আলোচনা হচ্ছে। তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে কোনো আদেশ, নির্দেশনা বা প্রজ্ঞাপন নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির কাছে পৌঁছায়নি। তাই আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থী জনগণের বিভ্রান্ত হওয়ার কোনো কারণ নেই।
তিনি বলেন, বর্তমান আইনজীবী ভবন, নির্বাহী আদালত, ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ও জজ আদালত তাদের নিজ নিজ স্থানেই থাকবে। ল্যান্ডস কোর্ট, সাইবার কোর্ট, বিদ্যুৎ কোর্ট ও নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল কালীরবাজারের নতুন ভবনে স্থানান্তরের বিষয়ে নানা আলোচনা থাকলেও এ বিষয়ে আইনজীবী সমিতির কাছে এখন পর্যন্ত কোনো সরকারি প্রস্তাবনা আসেনি।
সংবাদ সম্মেলনে আনোয়ার প্রধান বলেন, এসব আদালত পরিচালনার জন্য বর্তমান আদালত ভবনেই পর্যাপ্ত জায়গা রয়েছে। সরকার এ বিষয়ে কোনো নির্দেশনা দিলে বিদ্যমান ভবনের প্রয়োজনীয় স্থান নির্ধারণ করে আদালতগুলোর কার্যক্রম পরিচালনার ব্যবস্থা করা সম্ভব।
চাষাঢ়া মোড়ের যানজটের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, চাষাঢ়া নারায়ণগঞ্জের অন্যতম যানজটপূর্ণ এলাকা। একই স্থান থেকে অন্যত্র যাতায়াতের ক্ষেত্রেও মানুষ অনেক সময় চাষাঢ়া এড়িয়ে চলার চেষ্টা করেন। এমন পরিস্থিতিতে আদালতের কার্যক্রম এক স্থান থেকে অন্য স্থানে সরিয়ে নেওয়া হলে আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থী মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়বে। এতে আদালতের স্বাভাবিক কার্যক্রমও ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ম্যাজিস্ট্রেসি ও জজ কোর্টসহ কোনো প্রধান আদালত স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত হয়নি। যেসব ট্রাইব্যুনাল বা আদালত নিয়ে আলোচনা হচ্ছে, সেগুলো সরকার আইনজীবী সমিতির কাছে হস্তান্তর করলে বর্তমান আদালত ভবনেই পর্যাপ্ত জায়গার ব্যবস্থা করা হবে। প্রয়োজনে নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির আটতলা ভবনের এক বা দুটি তলা ব্যবহারের বিষয়েও আইনজীবীদের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া যেতে পারে।
আনোয়ার প্রধান জানান, এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জের সংসদ সদস্যসহ দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। তারা জানিয়েছেন, বিষয়টি এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। তবে কেউ কেউ ব্যক্তিস্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে প্রজ্ঞাপন জারি হয়েছে বলে আইনজীবীদের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি বলেন, “আমরা আইনজীবীরা কোনো বিভ্রান্তির ফাঁদে পা দেব না। নারায়ণগঞ্জের আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থী জনগণের স্বার্থ রক্ষায় আইনজীবী সমিতি সব সময় পাশে ছিল, আছে এবং থাকবে।”
সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে নারায়ণগঞ্জের আইনজীবী ও সাধারণ মানুষকে এ বিষয়ে আতঙ্কিত বা বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
এসময় উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট আব্দুল বারী ভূঁইয়া, জেলা পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট আবুল কালাম আজাদ জাকির, জেলা জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আব্দুল গাফ্ফার, যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট শামসুর নূর বাঁধন, জেলা আইনজীবী সমিতির যুগ্ম সম্পাদক অ্যাডভোকেট একেএম ওফর ফারুক নয়নসহ সমিতির সদস্যরা।
মন্তব্য করুন